কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে ওএমএসের (খোলাবাজারে বিক্রি) মাধ্যমে আলু বিক্রির চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘গতবার যে দামে আলু কিনেছেন, এবার কিন্তু কৃষক আলুর দাম পাচ্ছেন না। আমরা চেষ্টা করছি কৃষক যাতে আলুর দাম পান। এজন্য ওএমএসের মাধ্যমে যাতে আলুটা দেয়া যায় সে চেষ্টা করছি। কৃষক যদি পণ্যের দাম না পান পরে তারা এটি উৎপাদনের দিকে যাবেন না। এজন্য চেষ্টা করতে হবে কৃষক যাতে ন্যায্য দামটা পান।’ গতকাল সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
উপদেষ্টা বলেন, ‘গতবার যে পরিমাণ পেঁয়াজের দাম ছিল। এবার কিন্তু কৃষক অনেক বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন করেছেন। উৎপাদন বেশি করায় এবার পেঁয়াজ আমদানি না করেও কিন্তু বাজারটা মোটামুটি স্থিতিশীল আছে। এগুলো কৃষকেরই অবদান।’
পেঁয়াজ সংরক্ষণ করার জন্য কৃষককে আট হাজার এয়ার ফ্লো দেয়া হয়েছে। কৃষক যাতে তার বাড়িতে পেঁয়াজটা সংরক্ষণ করতে পারেন। কৃষি উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের একশ মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করার পরিকল্পনা আছে। আগামী মৌসুমের আগেই হয়তো আমরা এটি কমপ্লিট করতে পারব। এরপর আস্তে আস্তে সংখ্যা আরো বাড়বে। এতে কৃষকরা সেখানে সবজি সংরক্ষণ করতে পারবেন। তারা ন্যায্যমূল্যটা পাবেন, একই সঙ্গে আমরা ভোক্তারাও ন্যায্যমূল্যে পণ্য পাব।’
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘দেশ যারা বাঁচিয়ে রেখেছেন তাদের মধ্যে কৃষকদের অবদান সবচেয়ে বেশি। আমরা তাদের অবদানটা সেভাবে প্রকাশ করি না।’ দায়িত্ব নেয়ার পর পাঁচটি জেলা বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেখানে কিছু আউশ ও আমন ধানের ক্ষতি হয়েছিল। কৃষকরা পরিশ্রম করে আমাদের আমন ধানের যে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, এর চেয়ে ১৫ লাখ টন বেশি উৎপাদন করেছেন। তার পরও চালের দাম ২-৩ টাকা বেড়ে যাচ্ছে। খাদ্যশস্যের মজুদ এবার অন্যান্যবারের চেয়ে বেশি।’
আওয়ামী লীগের আমলে কৃষি যন্ত্রপাতি কেনায় দুর্নীতি হয়েছে জানিয়ে কৃষি উপদেষ্টা বলেন, ‘এটার অনুসন্ধান আমাদের পক্ষে করা সম্ভব নয়। এজন্য আমরা দুর্নীতি দমন কমিশনকে এ বিষয়ে অনুসন্ধান করার জন্য বলেছি। যারা দুর্নীতি করেছে তারা যেন শাস্তির আওতায় আসে।’ ডিএপি সারের মধ্যে ২০ শতাংশ ইউরিয়া সার থাকে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। আমরা ইউরিয়া সার ব্যবহার কমানোর চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে আমরা সার্বিকভাবে স্যারের ব্যবহার কমানোর চেষ্টা করছি।’
তিনি বলেন, ‘খামারি অ্যাপ নামে একটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। কোনো স্থানে দাঁড়িয়ে সেখানে কোন ধরনের সার লাগবে সেটা অ্যাপ বলে দিতে পারবে। ওই এলাকায় কোন ফসল ভালো হবে, সেটাও বলে দেবে। এটা যাতে আরো উন্নত করা যায়, সেই বিষয়ে আমাদের কাজ চলছে।’ সারের ডিলারশিপ দিতে নতুন করে নীতিমালা হচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘যারা সারের লাইসেন্স নিয়ে ঝামেলা করছে, আমরা তাদের বাদ দিয়ে নতুন করে লাইসেন্স দেব। যারা ভালো লোক আমরা তাদের লাইসেন্স দেয়ার চেষ্টা করব। বর্তমানে দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। নভেম্বর পর্যন্ত সারের কোনো সংকট হবে না।’